Advertisement

Responsive Advertisement

যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প– পর্ব ১ | Bangla Golper Asor BD

যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প | Bangla Golper Asor BD

যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প– পর্ব ১ | Bangla Golper Asor BD


যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প: প্রজারা বিরক্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদ করে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। রুদ্র নারায়ণ গড়ে প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা। অবশেষে কি হলো জানতে পুরো গল্পটি পড়ুন।


পর্ব ১

“জয় রুদ্র নারায়ণের গড়ের জয়”
“জয় রুদ্র নারায়ণ গড়ের রাজা কেশো নারায়ণের জয়”
প্রজারা চিৎকার করে জয়ের ধ্বনি দিচ্ছে, রাজা কেশো নারায়ণের নামে। যুদ্ধ সজ্জায় প্রস্তুতি নিচ্ছে কেশো নারায়ন। বীরমতে মেতে উঠেছেন তিনি। যুদ্ধের বাজনা বেজে উঠেছে। হাতিরা গর্জন করছে। পাঁচ লক্ষ সৈন্য বাহিনী ওঙ্কার ধ্বনি দিচ্ছে। রেশম বস্ত্রে রাজকীয় রাজপতাকা আকাশে উড়ছে। সবমিলিয়ে চারিদিকে এক বীরচিত পরিবেশ। সেখানে যুদ্ধ সাজে সবাই সজ্জিত হয়ে উঠছে।

রুদ্র নারায়ণ গড়, এক বিশাল প্রাসাদ। প্রাসাদের চূড়া যেন আকাশ ছুঁয়েছে। সামনে এক বিশাল ফুলের বাগান। চারিদিকে সৈনিক দিয়ে ঘেরা। ভিতরে একটা মাছি প্রবেশ করার বিন্দুমাত্র জায়গাও নেই। প্রাসাদটি এত সুন্দর, কিন্তু কেমন যেন নিষ্প্রাণ। আধো অন্ধকার। সূর্যের আলো পৌঁছায় না ভেতরে। সেই অন্ধকার হঠাৎ নেমে এসেছে।
চারিদিকে সৈন্যদল জয়ধ্বনি দিচ্ছে।

মাঝখানে রয়েছে দ্রুতগতি সম্পন্ন একটি শ্বেত অশ্ব। সে বারবার ” কু–হু–হ””করে সামনের দুটো পা উপরে তুলছে। যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সে। প্রাসাদের ভেতর থেকে ধনুকের টংকার বেজে ওঠার সাথে সাথে যুদ্ধ ঘোষণা হল। ধনুকে টংকার এত জোরালো, রুদ্র নারায়ণ গড় সহ পুরো পৃথিবীত কেঁপে উঠলো।
এমন সময় দোতালার দক্ষিণ দিকের একটা বারান্দার দরজা খুলে গেল। বেরিয়ে এল এক ঝলক নরম আলো।

সেই আলোর মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসছেন রাজকুমার কেশো নারায়ন। যেমন চাপার মত গায়ের রং, তেমনি মেঘের মতো লম্বা চুল। তেমনই চোখ, তেমনই নাক, তেমনি মুখ। মাথায় রাজযোটক। হাতে ধারালো তরোয়াল। এত সুন্দর! এত সুন্দর রাজপুত্র মনে হয় সারা পৃথিবীতে নেই। সুন্দর্য মনের সাথে কোন মিল নেই। পাষাণ একটা হৃদয় রয়েছে তার। তিনি জনসমক্ষে এসে, নিজের ডান হাত বারবার বুকে চাপড়ে চিৎকার করে বললেন,

  • আমি যোদ্ধা। আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা। আজ থেকে প্রতিটি রাজ্য আমার পায়ের তলায় থাকবে। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী একটাই নাম হবে, রুদ্র নারায়ণগড়। আর সেই রাজ্যের রাজা হবো আমি কেশো নারায়ন। আমার এই আগ্রাসনের সামনে যে আসবে, সে প্রাণ ভিক্ষা করার সময় পর্যন্ত পাবেনা। ধড় থেকে মুন্ডু নামিয়ে দিব।
    কেশো নারায়ণ জনসমক্ষে বাম হাতে তরোয়াল তুলে রাখে। ডানহাতে তরোয়াল এর ধারালো অংশে হাত মুঠো করে রাখেন। হাত থেকে লাল রক্তরেখা গড়িয়ে পড়ে তরোয়াল এর শেষ অংশ পর্যন্ত। সেই হাত নিয়ে তিনি কপালে দাগ কেটে হুঙ্কার দেন,
  • আমি যোদ্ধা আ-আ-আ-আ-আ-আ
    বারবার নিজের বুকে হাত চাপড়ে হুংকার দিচ্ছেন,
  • আমি যোদ্ধা, আমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বীর।
    সাথে সাথে পজাসহ সৈনিকরা জয়ধ্বনী দিতে থাকেন,
    “জয় রুদ্র নারায়ণগড় এর জয়”
    “জয় রুদ্রনগর এর রাজা কেশো নারায়ণের জয়”

এক লাফে তিনি শ্বেত অশ্বর পিঠে উঠে বসেলেন।অশ্ব সামনের দুটো পা উপরে তুলে “কু- হু-হু”করে, আলোর গতিতে দৌড়াতে লাগল। কেশো নারায়ণ অশ্ব পিঠে বসে, দুটো হাত শূন্যে মেলে ধরলো। একটা হাতে রাজকুমারী পার্বতীর দেওয়া আর প্রিয় “কণিকা” তরোয়াল। যেটার সাহায্যে এক নিমিষে হাজার সৈনিকে শেষ করে দিতে পারে। অন্য হাতে অশ্বর কেসকে ধরে তীব্র গতিতে ছুটছেন,পাশের রাজ্য অমৃতনগরীকে আক্রমণের উদ্দেশ্যে।তার পেছনে পাঁচ লক্ষ সৈন্য বাহিনী।

যে কোন রাজ্য কে বধ করার জন্য কেশো নারায়নই একাই যথেষ্ট। তার ওপর পাঁচ লক্ষ সৈন্য বাহিনী। বিশ্বের সমস্ত শক্তিশালী রাজ্যের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ইতিমধ্যে বিনাযুদ্ধে অনেক রাজ্য আত্মসংবরণ করেছে।
যদিও রুদ্র নারানগড় এর একটা দুর্বলতা রয়েছে। ভৌগলিক কারণবশত রুদ্র নারায়ণ গড়ে চারিদিকে নদী অবস্থিত। তাই যুদ্ধের জন্য বেশিরভাগ সময় জাহাজের উপর নির্ভর করতে হয়। তবুও পিছুপা ঘটেনি কেশো নারায়ণ।

গত ৫ বছর আগে রুদ্র নারায়ণ গড় বলে কোন রাজ্য ছিল না। সেই অংশটা অমৃতনগরীর অন্তর্গত ছিল। অমৃত নগরীর রাজা বিজয়, এখান থেকে তেমন কোন রাজ্য কোষ পেতেন না। বরং প্রজাদের পেছনে অনেক বেশি খরচ হতো। দুর্গম নদী পথ পেরিয়ে রাজ্য কোষ আদায় করাও সম্ভব নয়।

প্রজারা বিরক্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদ করে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। রুদ্র নারায়ণ গড়ে প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা করে, রাজকুমারী পার্বতী এবং রাজকুমার কেশো নারায়ণ। কিন্তু রাজা বিজয় বিনাযুদ্ধে রাজকুমারী পার্বতীকে এই রাজ্য দান করেন। কারণ যুদ্ধের জন্য যা অর্থ ব্যয় হবে, তারা সিকি মাত্রও রুদ্র নারায়ণগড় থেকে পাওয়া যাবে না। স্বাধীন রাজ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় রুদ্র নারায়ণ গড়। রাজকুমারী পার্বতী কেশো নারায়ণকে অস্ত্রশিক্ষা দান করেন। এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা বানায়।

পরবর্তীতে রাজকুমারী পার্বতী চেষ্টাই পাশের কয়েকটা রাজ্য দখল করে, রুদ্র নারায়ণ গড়ে মানচিত্র বদলায়। রুদ্র নারায়ন গড়ে সীমানা বিশাল হতে থাকে। কেশো নারায়ণকে রাজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পার্বতী কে রাজকুমারী পদে নিযুক্ত করা হয়। যদিও তারা বিয়ে করেননি। কেশো নারায়ণের সাহস এবং বিক্রমের কারণে আশেপাশে রাজ্যগুলোর ঘুম কেড়ে নেয়। সম্পদে ঐশ্বর্য পরিপূর্ণ হয় রুদ্র নারায়ণগড়।

এত ক্ষমতাধর হয়েও কেশো নারায়ন ছিল ভীষণ দয়ালু। তার আদর্শ ছিল “তোমরা আমাকে শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের শিক্ষিত সমাজ দেব”। যেটা অসম্ভব সেটা তিনি করে দেখাতেন। রাজ্য মানুষের প্রতি তার ছিল অসীম ভালোবাসা। প্রজাদের সুখ দুখ, আনন্দ-বেদনা নিয়েই তিনি সারাক্ষণ ভাবতেন। ফলে রাজ্যের মানুষরা ছিল খুব সুখী। কোন কিছুর অভাব ছিল না তাদের। তারাও তাদের রাজাকে প্রানের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। মাত্র 21 বছর বয়সে তিনি সিংহাসনে বসেন। তার শাসন প্রণালী অল্পদিনের প্রজাদের মন জয় করে নেয়।

হলে কি হবে! এত শক্তি যে রাজা, এত সম্পদে পরিপূর্ণ যার ভান্ডার। এত বিশাল আর মহৎ যার মন। সেই মনের গভীরের কোনে ছিল এক নিদারুণ বেদনা। দারুন অসুখী ছিলেন কেশো নারায়ণ। সব থেকেও তার যেন কিছুই নেই। তিনি যেন ভীষণ একা। সারাদিন আনমনা হয়ে থাকতেন।
এত সম্পদে পরিপূর্ণ রাজ্যকে, বারবার বিদেশেরা আক্রমণ করে। কিন্তু সব চেষ্টার ধুলোয় মিশিয়ে দিতেন কেশো নারায়ণ। তিনি একাই শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে লড়তেন।

রাজকুমারী পার্বতীও যুদ্ধক্ষেত্রে যেতেন না, কারণ তিনি যুদ্ধক্ষেত্রে গেলে কেশো নারায়ণের ব্যর্থতা ধরা পড়ে যাবে। কেশো নারায়ণ যে সময়ে দশজনকে সৈনকে বোধ করবে। ঠিক সেই সময়ের মধ্যে পার্বতী 25 জন সেনাকে বোধ করতে সক্ষম। অর্থাৎ বিশ্বের ইতিহাসে সেরা যোদ্ধা হিসেবে নাম থাকবে রাজকুমারী পার্বতী। তিনি কেশো নারায়ণের পথে বাধা হতে চাননি।তিনি চেয়েছিলেন কেশো নারায়ণকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা বানাতে। এবং বানিয়েও ছিলেন। কিন্তু কোনদিন ভাবেনি কেশো নারায়ণ রুদ্র নারায়ণ গড়ে আদর্শ সাম্য, মৈত্রী, ভালোবাসা ভুলে গিয়ে জাতীয়তাবাদ, আগ্রাসন নীতি গ্রহণ করবেন।

হঠাৎ এক বছরের মধ্যে কোথা থেকে কি হয়ে গেল। কর্পূর এর মত রাজকুমারী পার্বতী উবে গেলেন। কেশো নারায়ণ আগ্রাসন নীতি গ্রহণ করলেন। প্রজারা মটেও এই নীতি মেনে নিতে পারেননি। তবুও মুখ বুঝে সহ্য করছে। রাজার নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছে। তারা যুদ্ধ চাই না শান্তি চায়। একথা তারা রাজাকে বোঝাতে পারে না। যার ভয়ে গোটা বিশ্ব কম্পিত, জড়োসড়ো। তাকে কি করে প্রজারা বোঝাবেন। কেশো নারায়ণ এখন একটা নীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন, যার মাথা উঁচু হয়ে উঠেছে, তার মাথাটা কেটে ফেলে দাও।

মূলত চারটিটি কারণে কেশো নারায়ণের শত্রুরা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারত না। প্রথমত, তার বীর, পৃথিবীর সমস্ত বীর কে হার মানায়। ১০০০ হাজার জন সৈনিকের সামনে একা বুক ফুলিয়ে দাঁড়াতে পারে। কখনো পায়ের নিচে, কখন শূন্যেউঠে সৈনিকদের ধড় থেকে মাথা আলাদা করে দেয়। দ্বিতীয়ত, তার তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সাহায্যে বিপরীত দলের যুদ্ধকৌশল বুঝে নাওয়া। তৃতীয়ত, পৌড়ানীতি, প্রথমে শত্রুদলকে বাধা না দিয়ে রাজ্যের মধ্যে প্রবেশ করতে দিতেন।

রাজ্যে থাকা-খাওয়ার পানিও সবগুলিতেই বিষ মিশে দিয়ে, শত্রুদলকে দুর্বল করে তুলতেন। এরপরে রুদ্র বাহিনী চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে শত্রু দলকে ধ্বংস করে দিতেন। চতুর্থ, তিনি কোন সেনাপতি রাখতেন না, বিশ্বাসঘাতকতার কোনো সুযোগ ছিল না। তিনি নিজেই যুদ্ধক্ষেত্রে যেতেন এবং সামনে থেকে প্রতিনিধি করতেন।
কিন্তু অমৃত নগরীতে পৌঁছে তিনি একটু বিপাকে পড়লেন। তার যুদ্ধকৌশল যেন তাকে ফেরত দিচ্ছে। কোন সৈনদল তাদের প্রতিহত করতে আসছে না।

তাহলে কি আর্তসর্ম্পন করলো রাজা বিজয়? সেটা মোটেও সম্ভব নয়! বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্র অমৃত নগরী। তারা ভয় আত্মসমর্পণ করবে। প্রতি আঘাত আনবে না। এটা কখনোই সম্ভব নয়।
কেশো নারায়ন অগ্নি তীর নিয়ে অমৃত রাজপথ দিকে ছুড়ে দিলেন। রাজপতাকা জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল। সাথে সাথে পেছন থেকে কয়েক লক্ষ তীর তাদের দিকে ছুটে এলো। অল্প সময়ের মধ্যে এত তীরের আগমন তারা সামলে উঠতে পারল না।

মাটিতে লুটিয়ে পরল হাজার হাজার কেশো নারায়ণের সৈনিকের দল। তবুও দ্বিধা বোধ করলেন না কেশো নারায়ন। তিনি বুক ফুলিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে রইলেন। তার ধারণা, তিনি একাই অমৃত নগর এর জন্য যথেষ্ট। রাজা বিজয় হুংকার দিয়ে বললেন,

  • এখনো সময় আছে কেশো নারায়ন, সমস্ত সৈন্য নিয়ে তুমি রাজ্যে ফিরে যাও। তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা হতে পারো, কিন্তু সামরিক শক্তি থেকে অনেক পিছিয়ে। তোমাকে প্রাণভিক্ষা দিচ্ছি, যে কজন সৈন্যবাহিনী বেঁচে আছে তাদের নিয়েই রাজ্যে ফিরে যাও।

কেশো নারায়ণ হুংকার দিয়ে বলল,

  • আমি যোদ্ধা। তোমাকেও সময় দিচ্ছি তুমি আত্মসংবরণ করো। আমি একাই অমৃত নগর এর সমস্ত সৈনিকের জন্য যথেষ্ট।
  • কেশো নারায়ন, রক্ত দেখেছো রক্তের নদী দেখনি।
  • রাজা বিজয়, রক্তের নদী দেখেছ সাগর দেখনি।
    সঙ্গে সঙ্গে রুদ্র নারায়ণ গড়ের সৈন্যদল তীর ছুড়লেন। প্রতিঘাত করলেন বিপরীত দলের সৈনিকরা। শুরু হলো তুমুল যুদ্ধ।কেশো নারায়ন দুই হাতে দুটো তরোয়াল নিয়ে সৈনিকদের টুকরো টুকরো করতে লাগলেন। ক্রমশই রাজপ্রাসাদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। কোন সৈনিকই তার সামনে দাঁড়াতে পারছে না। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে, রাজপ্রাসাদের ভেতরে থাকা সমস্ত সৈনিককে দু টুকরো করে দিলেন কেশো নারায়ন।

রাজপ্রাসাদের মধ্যে প্রায় সবাই ভয়ে জড়সড়। ঘরের একটা কোনে লুকিয়ে রয়েছে রাজা বিজয়ের পত্নি, রানি রূপমতি এবং পুত্রবধূ এবং পুত্রবধূর সাত বছরের কন্যা। রানী হয়ে লুকিয়ে থাকা রানীর শোভা পায় না। এটা লজ্জাজনক ঘটনা। রানী যদি লুকিয়ে থাকে তাহলে প্রজারা কার ভরসায় বেঁচে থাকবে। নিজের বিবেকে বাধলো রুপমতীর। তিনি বীরের মতো তরোয়াল নিয়ে কেশো নারায়ণ কে প্রতিহত করলেন। কেশো নারায়ণ একটু দুর্বল হলেন রানীর মায়াবী চোখে।

তিনি কেশো নারায়ণের আসল মা। যদিও দুজনই জানে না তারা মা ছেলে। কিন্তু কেশো নারায়ণের কাছে রানী টিকে থাকতে পারলেন না। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে রানীর ধড় থেকে মুন্ডু আলাদা করে দিলেন কেশো নারায়ন। নিজের মাকে হত্যা করলেন। যদিও তিনি জানেন না রূপবতী তার আসল মা। এই দৃশ্য দেখে পুত্রবধু সহ তার সাত বছরের কন্যা কেঁদে উঠলেন।কী নিশংস ভাবে হত্যা রূপবতী কে? একজন নারীকে হত্যা করতে একটুও হাত কাঁপলো না কেশো নারায়ণের।

তাদের গোটা শরীর থর থর করে কাঁপছে। নিঃশ্বাস নিতে পারছে না। ভয়ে চোখ, মুখ, ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। এবার কেশো নারায়ণ সাত বছরের শিশুর দিকে এগোতে লাগলেন। তার মা চিৎকার করে বলতে লাগল,
ওকে ছেড়ে দাও, আমাকে হত্যা করো। সে একটা শিশু। নিষ্পাপ শিশুকে মেরে তোমার কি লাভ। পবিত্র শিশুকে হত্যা করে পাপের বোঝা বাড়িয়ো না। দয়া করে ওকে ছেড়ে দাও।
কিন্তু কেশো নারায়ণের প্রাসান হৃদয় তামনলো না। সে শিশুটিকে হত্যা করল। তার মা কান্না থামিয়ে চিৎকার করে করে বললেন,

  • তুমি মানুষ নও, মানুষ বেশি তুমি এক হিংস্র পশু, তুমি একটা জানোয়ার, একটা নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করতেও তোমার হাত আটকালো না। এই তুমি রাজা। তোমার আসল পরিচয়। তুমি নাকি শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা।যোদ্ধা যেমন সমস্ত মানুষকে হত্যা করে, তেমনি সমস্ত মানুষের দায়িত্ব নিজের হাতে নেয়।তোমার রাজযোটক তোমাকে ঘৃণা করবে।
  • তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ যোদ্ধা নও, তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ…

কিছু বলার আগেই, কেশো নারায়ণ এক কোপে মুন্ডু সরিয়ে ফেলেন। মুহুর্তের মধ্যে গোটা রাজপ্রাসাদ লাল রঙে ভরে গেল। চারিদিকে শুধু লাশ আর রক্তে লাল। কেশো নারায়ণ সেই রক্তে মাখা মেঝেতে বসে পড়লেন। এটা তিনি কি করলেন? এতগুলো নিষ্পাপ নারীকে হত্যা করলেন? রাজকুমারী পার্বতীর একটাও আদর্শ মানলেন না। সব ভুলে গেল। তার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছে। যোদ্ধাকে কাঁদতে নেই। উঠে দাঁড়াতে হয়। যেখানে দাঁড়ালেই মৃত্যু ঘটে রক্তের বন্যা বয়ে।

সেখানে দাঁড়ানোটাই বৃথা। তার কানে তীরের মতন রাজকুমারী পার্বতীর একটা কথা ভেসে আসছিল,”এমন জীবন গঠন করিবে তুমি, মরিলেও কাঁদিবে জগত জননী”। আর এটা তিনি কি করলেন, তিনি মারা গেলে কান্না তো দূরের কথা, কেউ হয়তো পড়াতেও নিয়ে যাবেন না। কুকুর, শিয়াল ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাবে।

(যোদ্ধা নামের এই রুপকথার গল্প টি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে আমাদের কমেন্ট করুন।)

-চলবে-

পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “যোদ্ধা নামের রুপকথার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

পরের পর্ব পড়ুন – যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প– পর্ব ২ | Bangla Golper Asor BD

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ