Advertisement

Responsive Advertisement

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে – পর্ব ১ | নতুন রূপে ভালোবাসার গল্প

আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে – পর্ব ১ | নতুন রূপে ভালোবাসার গল্প


 আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে – পর্ব ১

অনুপ্রেরণা: “আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে” – সালমা চৌধুরী
পুনর্লিখন: Bangla Golper Asor BD


 দীর্ঘ সাত বছর পর দেশে ফিরছে খান পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তান — সাজ্জাদুল খান আবির।

"বাড়ি ফিরছে" বলাটা হয়তো যথেষ্ট নয়, কারণ এই সাত বছরে শুধু দেশের মাটি নয়, সময়ও যেন তার জীবনের এক বিশাল অধ্যায়কে বদলে দিয়েছে।

খান বাড়ি এখনো সেই পুরনো আভিজাত্য ধরে রেখেছে। বড় চাচা আলী আহমদ খান, মেজো চাচা মোজাম্মেল খান, আর ছোট চাচা ইকবাল খান — তিন ভাই মিলে এখনও সেই যৌথ পরিবারের ঐতিহ্য রক্ষা করছেন।
আবির একমাত্র সন্তান আলী আহমদ খানের, তাই পরিবারের সবার কাছে সে সবসময়ই আদরের, প্রিয় মুখ।

মেজো চাচা মোজাম্মেল খানের দুই সন্তান — ছেলে তানভির খান, মেয়ে মাহদিবা খান মেঘ।
ছোট চাচা ইকবাল খানেরও দুই সন্তান — মীম আর আদি।
সব মিলিয়ে এক প্রাণবন্ত পরিবার, হাসি-কান্না, ভালোবাসা আর বন্ধনের সুতায় বাঁধা।

একসময় এই বাড়ির প্রাণ ছিল আবির। তার হাসি, তার দৌড়ঝাঁপ, তার কাণ্ডকারখানায় মুখর থাকত চারদিক।
কিন্তু আঠারো বছর বয়সে যখন সে বিদেশে পড়ার সুযোগ পেয়ে চলে যায়, তখন যেন খান বাড়ির এক টুকরো আলো নিভে যায়।
শরীরের দূরত্ব যেমন বেড়েছিল, তেমনি মনেও একটা ফাঁক তৈরি হয়েছিল সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।

এখন সে ফিরে আসছে — সাত বছর পর।
চেহারায়, পোশাকে, ব্যবহারে, এমনকি দৃষ্টিতেও বদলে গেছে সবকিছু।
ছয় ফুট লম্বা, গায়ের রঙে একরকম ধূসর শ্যামল আভা, মুখে হালকা দাঁড়ি, পরিণত ভাব— যেন ছোটবেলার সেই দুষ্টু আবির কোথায় হারিয়ে গেছে।
বিমানে বসে অতীতের স্মৃতি তার মনে ভেসে উঠছে একে একে — মায়ের মুখ, বাড়ির উঠোন, তানভিরের সাথে অগণিত গল্প…


দেশে ফেরা

বিমানবন্দর গেট পেরিয়ে আবির দেখল, সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তার বাবা আর চাচাতো ভাই তানভির।
তানভির দুই বছরের ছোট হলেও দুজনের সম্পর্কটা ছিল রক্তের চেয়েও গভীর— একসাথে বড় হওয়া, একসাথে হাসা-কাঁদা, সেই বন্ধুত্ব আজও অটুট।

তানভির ছুটে এসে ভাইকে জড়িয়ে ধরলো, বললো —
“বিশ্বাসই হচ্ছে না, সত্যি তুই ফিরে এসেছিস!”

বাবার পায়ে সালাম করে আবিরও মৃদু হাসল। সাত বছরের দূরত্ব এক মুহূর্তে গলে গেল।
গাড়ি করে তারা বাড়ির পথে রওনা দিল।


খান বাড়িতে ফিরে

খান বাড়িতে যেন উৎসবের আমেজ।
রান্নাঘর থেকে আসছে বিরিয়ানি আর গরুর কাবাবের গন্ধ। মা আর চাচিরা ব্যস্ত নানা রকম আয়োজন নিয়ে।
দরজায় আবিরকে দেখেই সবাই ছুটে এলো।
মালিহা খান, তার মা, ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কান্না আটকে রাখতে পারলেন না।
আবিরও মায়ের বুকে মুখ লুকিয়ে নিঃশব্দে বলল,
“আমি ফিরেছি মা…”

এক এক করে সবাই এসে শুভেচ্ছা জানালো।
শরবত, নাস্তা, হাসির শব্দে ভরে উঠল পুরো ঘর।
এমন সময় ছোটরা এসে হাজির — মীম আর আদি।

আদি তো ভাইকে শুধু ভিডিও কলে চিনত, সামনাসামনি দেখে উচ্ছ্বাসে দৌড়ে এসে বলল,
“ভাইয়া, আমার জন্য কী এনেছো?”

হাসতে হাসতে আবির বলল,
“এই লাগেজটা খুললে বুঝে যাবি।”

তানভির লাগেজ তুলতে গেলে আবির হঠাৎ থামিয়ে দিল—
“ওটা নয়, পাশে যেটা আছে, ওটা নিয়ে আয়।”

সবাই একটু অবাক হলেও তেমন কিছু ভাবল না।
লাগেজ খুলতেই উপচে পড়ল উপহার—
আদির জন্য দামী খেলনা, মীমের জন্য পোশাক আর কসমেটিকস, মা ও চাচিদের জন্য নানা রকম গিফট, তানভিরের জন্য নতুন ফোন আর ল্যাপটপ।

তখন মীম কৌতূহলভরে জিজ্ঞেস করল,
“ভাইয়া, আরেকটা ল্যাপটপ দেখছি, এটা কার?”

আবির মৃদু হেসে বলল,
“ওটা মেঘের।”

মেঘের মা হালিমা খান অবাক হয়ে বললেন,
“মেঘের ল্যাপটপের দরকার কী বাবা?”

আবির শান্তভাবে উত্তর দিল,
“ওর তো এইচএসসি শেষ, এখন ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পড়াশোনার জন্য ওর কাজে লাগবে।”

মীম অভিমান করে বলল,
“আমার জন্যও একটা আনতে পারতি না?”

আবির হেসে বলল,
“তুই যখন ১৮ হবি, তখন তোকে আরও সুন্দর একটা এনে দেব।”


পরিবারের উষ্ণতা

ঠিক তখন ছোট চাচা ইকবাল খান ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।
আবির দৌড়ে গিয়ে সালাম করল।
চাচা তাকে জড়িয়ে ধরে মৃদুস্বরে বললেন,
“আজ মনে হচ্ছে এই বাড়িটা আবার সম্পূর্ণ হলো।”

আবির নিজের হাতে চাচার জন্য আনা উপহার দিল, মেজো চাচার জন্যটা যত্ন করে রেখে দিল।

কোণের দিকে তখনো পড়ে আছে এক বাক্স আর শপিং ব্যাগ, সুন্দরভাবে মোড়ানো।
আদি কৌতূহলে জিজ্ঞেস করল,
“ভাইয়া, এগুলো কার?”

আবির শান্ত গলায় বলল,
“এগুলো মেঘের জন্য।”
তারপর নিঃশব্দে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

পেছন থেকে মা জিজ্ঞেস করলেন,
“কোন রুমে যাবি বাবা?”

একটু থেমে আবির বলল,
“আমার রুমটা কি এখনও আছে?”

মা হেসে উত্তর দিলেন,
“তোকে ছাড়া ঘরটা ফাঁকা ছিল এতদিন, আজ সকালে পরিষ্কার করে রেখেছি।”

তানভির এগিয়ে এসে লাগেজ ধরতে চাইলে আবির একটিকে দিল, আরেকটি নিজেই হাতে নিল।


মেঘের আগমন

ঠিক তখনই দরজায় পায়ের শব্দ— এসেছে মাহদিবা খান মেঘ।
কোচিং থেকে ফিরেই ঘরে প্রবেশ করল সে।
মীম দৌড়ে গিয়ে বলল,
“আপু! আপু! আবির ভাইয়া এসেছে!”

মেঘ অবাক হয়ে সিঁড়ির দিকে তাকালো।
উঁচু দেহী, পরিণত এক যুবক, হাতে লাগেজ নিয়ে ধীরে ধীরে উপরে উঠছে — মুখ দেখা যায় না, শুধু দৃঢ় পদক্ষেপের ছাপ।

ঘরে ঢুকে মেঘের চোখ পড়ল টেবিলে রাখা ল্যাপটপ আর গিফটের দিকে।
মা বললেন,
“তোর জন্য এনেছে আবির।”

মেঘ বিস্ময়ে বলল,
“আমার জন্য?”

মীম ছুটে এসে বলল,
“হ্যাঁ আপু, এটা তোর ল্যাপটপ, আর এই শপিং ব্যাগটা!”

ল্যাপটপ হাতে নিয়ে মেঘ যেন এক অদ্ভুত আবেগে ভেসে গেল।
এত বছর পর, বিদেশ ফেরত সেই চাচাতো ভাই— যে একসময় তার শৈশবের সবচেয়ে কাছের মানুষ ছিল— আবার ফিরে এসেছে।

হয়তো এই ফেরা শুধু পরিবারের নয়, কারও হৃদয়ের দরজাও খুলে দিতে চলেছে…

চলবে...

“পরের পর্ব পড়ুন – আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে পর্ব ২”



মেঘ আর আরিবের গল্পটা কি আপনাকেও ছুঁয়ে গেল? ভালো লেগে থাকলে একটা ❤️ দিন, আর কমেন্টে লিখুন—“আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে” সিরিজের কোন মুহূর্তটা আপনার সবচেয়ে প্রিয়?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ