.jpeg)
যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প– পর্ব ৪ | Bangla Golper Asor BD
যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প: প্রজারা বিরক্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদ করে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। রুদ্র নারায়ণ গড়ে প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা। অবশেষে কি হলো জানতে পুরো গল্পটি পড়ুন।
পর্ব ৪
রূপনগরে (রুদ্র নারায়ণগড়) এবং অমৃত নগর এর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ বাঁধে। অমৃত নগরী শক্তিশালী রাষ্ট্র হলেও রূপনগরে পরাস্ত করতে বেশ খানিকটা সময় লাগে। রূপনগরে পাল্টা জবাব দিতে থাকে অমৃত নগরীকে। কিন্তু খুব কম সৈন্যসামন্ত পেরে উঠতে পারে নি অমৃত নগরীকে পরাস্ত করতে। যত বেলা বাড়তে থাকে ততই রূপনারানের সৈনদল ধ্বংসের পরিণত হয়।আরো ভেঙে পরে রূপনগরের সৈন, যখন রাজা বিক্রম মারা যান। এখানে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। পুরো রূপনগরে অমৃতনগর দখলে চলে আসে। চলে নির্মম হত্যালীলা। এই হত্যালীলা বাচ্চা থেকে শিশু কাউকে ছাড় দেয়নি রাজা বিজয়।
রূপনগরের মহারানী নিজেকে বাঁচাতে তিনি অমৃত নগরীর ছোট রাজকুমার কেশো নারায়ণের সামনে তরোয়াল ধরে রাখে। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, তার গায়ে কিংবা রাজকুমারী পার্বতীর গায়ে যদি একটু আঘাত লাগে, তাহলে তিনি ছোট্ট কেশো নারায়ন কে হত্যা করবেন। তখন মহারাজা বিজয় বাধ্য হয়ে উনাদেরকে ছেড়ে দেন। কিন্তু মহারানী মহারাজকে বিশ্বাস করতে পারেন না। তিনি ছোট্ট কেশো নারায়ন এবং বেঁচে থাকা কয়েকজন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে সমুদ্রপথে নিজের রাজ্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তার পেছনে পেছনে অমৃতনগর সৈন্য-সামন্ত ধাওয়া করে। মাঝ সমুদ্রে শুরু হয় প্রবল ঝড়। ঝড়ে নিস্তেজ হয়ে যায় অমৃত নগরী এবং রূপনগরীর সৈন্যদল।
মহারানী নিশ্চিত তার প্রাণ কেউ রক্ষা করতে পারবেন না। তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে। তিনি ছোট্ট কেশো নারায়নের দিকে তাকালেন। সে তো এখন ঘুমাচ্ছে। মহারানীর বিবেকে লাগলো। তার জন্য এই ছোট্ট শিশুটি মারা যাবে। তাদের মধ্যে শত্রুতা, ওই বাচ্চা ছেলেটিকে পোহাতে হবে। অল্প বয়সে মৃত্যুবরণ করতে হবে। শত্রু দলের ছেলে হতে পারে, কিন্তু নিষ্পাপ শিশুকে হত্যার মুখে ঠেলে দেওয়া মত জঘন্য পাপ তিনি করতে পারেন না। একটা ছোট্ট মান্দাসে, তিনি কেশো নারায়ণকে ভাসিয়ে দেন।
এবং নিজে মৃত্যুবরণ করেন। সমুদ্র ঝড়ের পর ধরে নেওয়া হয় রূপনগরের মহারানী এবং অমৃতনগর ছোট্ট রাজকুমার মারা গেছে। শোকের ছায়া নেমে এসেছে অমৃতনগর মধ্যে। মহারানী রূপমতী খুব ভেঙ্গে পড়ে ছোট্ট সন্তানকে হারিয়ে। উনি প্রতিজ্ঞা করেন রূপনগরের রাজকুমারী পার্বতী কে হত্যা করে উনি কেশো নারায়ণের হত্যার প্রতিশোধ নেবেন।পরের দিনই রূপনগরে রাজপ্রাসাদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে অমৃতনগর সৈন্যবাহিনী। শুরু করে চরম হত্যালীলা। রাজকুমারী পার্বতীর বয়স তখন ১২ বছর। তিনি কিছুই জানেন না। তবে একটা কথা বুঝতে পেরেছিলেন, তিনি যদি রাজকুমারীর বেশে থাকেন তাহলে তার মৃত্যু অনিবার্য।
তিনি রাজকুমারীর পোশাক-আশাক ছেড়ে দিয়ে সাধারণ পোশাক পরিহার করে। অমৃত নগরীর সৈনদল রাজকুমারী পার্বতীকে না পিয়ে আরও চরমভাবে হত্যা শুরু করে। তাও রাজকুমারী পার্বতীকে খুঁজে পাননি।একদিন হত্যালীলা পর অমৃতনগর সৈন্যদল ফিরে যায় এবং কিছু সৈন রাজপ্রাসাদে থেকে যায়।সেনাপতি মশাইকে রুপ নগরের দায়িত্ব দেন রাজা বিজয়।
দুদিন ধরে পেটে একমুঠো ভাত না পড়ায় ভেঙ্গে পড়ে রাজকুমারী পার্বতী। তিনি চিৎকার করে করে খাওয়ার চাইতে থাকেন। কিন্তু কেউ দেয়নি। এদিক ওদিক সে ছুটে বেড়ায়, খাবার খুঁজতে। সে নদীর পাশে গিয়ে জল তুলে পান করতে থাকে। অন্তত কিছু সময়ের জন্য বেঁচে থাকতে পারবেন।জল পান করে তিনি কয়েক মুহুর্তের জন্য নদীর পাড়েই ঘুমিয়ে পড়েন। সমুদ্র তখন ভয়ঙ্করভাবে গর্জন করছে। তীব্র ঢেউ নদীর পাড়ে আছাড় খাচ্ছে। ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছে নদীর পাড়।
সেই সাথে ভেঙে যাচ্ছে রাজকুমারী পার্বতীর হৃদয়। হঠাৎ কোনো শিশু তীক্ষ্ণ কান্নার রাজকুমারীর ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। এই নদীর পারে শিশুর কান্না। তা কি সম্ভব? কোন কিছুই অসম্ভব নয়।রাজকুমারী ব্যাকুল হয়ে ওঠে সেই শিশুটিকে দেখার জন্য।রাজকুমারী উঠে এদিক-ওদিক খুঁজতে লাগে সেই শিশুটিকে। কে এই শিশু? যে তীক্ষ্ণ ভাবে শুধু কান্না করে চলেছে।তিনি লক্ষ্য করেন নদীতে একটি ছোট্ট মান্দাস ভাসছে, আর সেখান থেকেই ভেসে আসছে তীক্ষ্ণ কান্নার সুর।
সে অনেক কষ্টে সেই মান্দাসকে নদীর পাড়ে আনে। মান্দাস দেখেই তিনি বড়ই আশ্চর্য বোধ করে। ওই মান্দাসের ভেতর রয়েছে এক ছোট্ট শিশু। তখনো শিশুটি তীব্র আর্তনাদ করে কেঁদে চলেছে। পার্বতীর মন আর বাঁধলো না, সে ছোট্ট শিশুটিকে কোলে তুলে নিল। তখনো কান্না করে চলেছে। দেখে মনে হয় শিশুটিও তার মতন দুদিন ধরে কোন খাওয়ার ভক্ষণ করে নি। খিদার চোটে তার তীব্র কান্না। কিন্তু শিশুটিকে কী খেতে দেবেন রাজকুমারী? নিজে এই আজ দুই দিন না খেয়ে রয়েছে। তার উপর একটা বাচ্চা শিশু। সে পারলোনা বাচ্চা শিশুর কান্না দেখতে। তাকে কোলে করে গ্রামে উদ্দেশ্যে চলল।
গ্রামে গিয়ে সে একের পর এক কুঠির দরজায় টোকা দিতে লাগলেন। কিন্তু কেউ খুললো না। যার দরজা খোলা ছিল সে আবার বন্ধ করে দিল। একজন ভদ্রমহিলা বাড়ির সামনে বসে থাকতে দেখে রাজকুমারী পার্বতী তাকে বললেন,
- আমাকে দুমুঠো ভাত দিন না। ওই শিশুটি কাঁদছে। তাকে খেতে না দিলে মারা যাবে। দয়া করে ভাত দিন দুমুঠো।
কিন্তু ভদ্র মহিলার পাষাণ হৃদয় ওই শিশুটির কথায় মন গলল না। তিনি রাজকুমারীকে দূরে ছুঁড়ে দিয়ে বললেন,
- যা এখান থেকে ভাগ। আমরা নিজেরা খেতে পারিনা তোকে কি করে খেতে দিব।
রাজকুমারী আবার উঠে ভাত চাইলো। তার জন্য নয় ছোট্ট শিশুটির জন্য। কিন্তু তাদের পাষাণহৃদয় সে গলাতে পারলো না।রাজকুমারী আরো কিছুদূর গিয়ে তিনি আবার একজনকে ভাত চাইলেন, - দিন না, আমাকে এক মুঠো ভাত। শিশুটা ভীষণ কান্না করছে। না খেতে পারলে মারা যাবে। দয়া করে ওকে কিছু খেতে দিন। দয়া করে এক মুঠো ভাত দিন।
রাজকুমারী পার্বতী লোকটির পায়ে ধরে বসে পড়লেন এবং চিৎকার করে করে এক মুঠো ভাত চাইলে। কিন্তু লোকটি ভাত দিল না। তিনি রাজকুমারী পার্বতী থেকে দূরে ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, - তোদের পিতা মাতা কেমন রে? যদি সন্তানদের খাওয়াতে পারবে না তাহলে জন্ম দিয়েছিল কেন? আমার একটা নয় দুটো।
এমন বিদ্রূপ কথাতেও রাজকুমারী পার্বতী সরে আসলো না। সে জানে,দুমুঠো ভাত না পেলে ছোট্ট শিশুটি মারা যাবে। সে আপ্রাণ চেষ্টা করলো দুমুঠো ভাত সংগ্রহের জন্য। গ্রামের প্রায় প্রত্যেকটি বাড়িতে সে ভাত চাইল। কিন্তু কেউ এক মুঠো ভাত দিল না। রাজকুমারী হৃদয় হাহাকারে উঠেছে। এটাই কি তাদের রাজ্য। এই রাজ্যের তিনি রাজকুমারী। হয়তো তার পরিচয়টা গোপনে রয়েছে। গ্রামের মানুষেরা যে আদর্শ বড় হয়েছে তার বিন্দুমাত্র পরিচয় রাজকুমারী দেখতে পেলেন না। সবাই স্বার্থপর! স্বার্থপর! কেউ দুমুঠো অন্ন দিল না। তীব্র এক কষ্টকর মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে হবে রাজকুমারী পার্বতী এবং কেশো নারায়নকে। তবুও রাজকুমারী পার্বতী শেষ চেষ্টা করলেন। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন সে রাজকুমারী পার্বতী, সে বেঁচে থাকতে ওই ছোট্ট শিশুটির কিছু ক্ষতি হতে দিবেন না। তিনি শেষমেষ আর এক বাড়িতে গিয়ে দুমুঠো ভাত চাইল। চাষী তার দিকে তাকিয়ে বলল, - আমি তোমাকে ভাত দেব, কিন্তু তার বিনিময়ে তুমি কি দিবে?
রাজকুমারী পার্বতী মুখে একটু হলেও হাসি ফুটে উঠল। সে চাষীর দিকে তাকিয়ে বলল, - আমার কাছে তো কিছু নেই। আমি আপনাকে কি দিব। দয়া করে ওই শিশুটির প্রাণ বাঁচান। ওই শিশু দুমুঠো ভাত না পেলে যে মারা যাবে।
- তোকে ভাত দিতে পারি। যদি তুই আমার একটা কাজ করতে রাজি হোস?
- কি কাজ বল। আমি সব কাজ করতে রাজি আছি।
- তুই আমার গুরু গুলোর জন্য এক আঁটি ঘাস নিয়ে আয়। তবেই তোকে আমি ভাত দিব। না হলে এখান থেকে চলে যা।
পার্বতী আর সময় নষ্ট করল না। শিশুটিকে নিয়ে ঘাস সংগ্রহ করতে লাগলো। সে একটা নিরাময় জায়গায় শিশুটিকে শুইয়ে দিল। তখনো কান্না থামেনি শিশুটি। পার্বতী বারবার রাজকুমার কে বলছে “কান্দিস না! কান্দিস না! একটু অপেক্ষা কর, দেখবি আমি ঠিক ভাত সংগ্রহ করতে পারব। তুই একটু চুপ করে থাক”। কিন্তু রাজকুমারীর কোন কথা শুনলো না শিশুটি। খিদূর চোটে তার কান্নার বেগ আরো বেড়ে গেল। রাজকুমারী ঘাস কাটতে লাগল। ঘাস কাটার অভিজ্ঞতা তার কখনোই নেই। প্রাসাদের মধ্যে বড় হয়েছে। তার পেছনে সবসময় দাস-দাসীরা ছিল। আর আজ তিনি ঘাস কাটছেন। ভাগ্য যে চাকার মতো ঘুরে। কখন কার দিকে থাকবে তা বোঝা বড়ই মুশকিল। ভাগ্যের পরিহাসে আজ তারা সব হারিয়েছে।তিনি নিজেই ছোট্ট শিশু,তার ওপর চাপিয়ে দিয়েছে ভগবান আবার আর এক ছোট্ট শিশুকে। দুদিন হল পিতা-মাতাকে হারিয়েছে। সেই কষ্ট ভুলতে না ভুলতে আবার এক কষ্ট এসে উপস্থিত। চোখ দিয়ে টপটপ করে জল ঝরে পড়ছিল। তবুও তিনি কোনো বাধা মানলেন না। এক আঁটি ঘাস নিয়ে কৃষকের কুটীর-দ্বারে উপস্থিত হল। এক আঁটি ঘাস এর বিনিময় দুমুঠো ভাত নিয়ে এলো। কিন্তু শিশুটিকে ভাত খাওয়াতে গিয়ে তিনি বড়ই মুশকিলে পরল। শিশুটি কিছুতেই ভাত খেতে চাইছে না। তবুও জোর করে এক মুঠো ভাত খাওয়ালো। শিশুটি অনেক ছোট। ভাত খাওয়ার তিনি মোটেও অভ্যস্ত নয়। এখন তার মাতৃদুগ্ধ পান করা উচিত। কিন্তু সেটা তো মোটেও সম্ভব নয়। তখনই রাজকুমারী পার্বতী লক্ষ্য করে তার হাতে দুটো সোনার বালা। তিনি শিশুটিকে নিয়ে আবার সেই চাষীর কুঠিরে গেলে।রাজকুমারীকে দ্বিতীয়বারের মতো দেখে চাষী বিরক্ত হয়ে বলল, - আবার এসেছো কি জন্য?
রাজকুমারী পার্বতী করুন দৃষ্টিতে চাষীর দিকে তাকিয়ে রইল। সে দয়ালু সুরে বলল,
- আমাকে এক ঘটি দুধ দিন না।
- অ্য..অ্য.. দুধ দিন না। দুধের দাম কত তুই জানিস। দুধ হবে না, যা ভাগ।
রাজকুমারী এবার চাষীর পা ধরে ফেললেন। নিজের সোনার বালা খুলে ফেলে চাষীর দিকে বাড়িয়ে দিলেন।তিনি বারবার করুণা করে বললেন, - এই নাও আমার সোনার বালা। এবার আমাকে এক ঘটি দুধ দাও।
সোনার বালা দেখে চাষী চোখ জ্বলজ্বল করে উঠলো। সে কিছুতেই ওই সোনার বালা হাতছাড়া করতে চাইল না। তবে তাঁর লোভ আরও বেশি বাড়লো।অসহায় রাজকুমারীকে বাগে পিয়ে তিনি সব চুষে নিতে চাইলে।সে রাজকুমারীকে বলল,
- আমায় দুটো বালা দাও, তবেই আমি দুধ দেব।
রাজকুমারী আর কোন কথা বলল না। সে সাথে সাথে তার দুটো বালা খুলে চাষীকে দিল। চাষী সঙ্গে সঙ্গে এক ঘটি দুধ দিলেন। চাষী সোনার বালা পেয়ে বেজায় খুশি, তিনি নাচতে নাচতে কুটীর-দ্বারে প্রবেশ করলেন। আর রাজকুমারী দুধ নিয়ে এসে ছোট্ট শিশুটিকে পান করলেন। অবশিষ্ট দুধ এবং ভাত নিজে খেয়ে কয়েক মুহুর্তের জন্য প্রাণ বাঁচালো। এবারে বাচ্চা শিশুটি কান্না থামিয়েছে। শিশুটি কান্না থামিয়ে প্রশ্ন করল,
- আমার মা কই? আমি মায়ের কাছে যাব।
বড় অদ্ভুত প্রশ্ন শুনে রাজকুমারী বিব্রত হলেন। তিনি কোথায় পাবেন তার মাকে। এই যুদ্ধে হয়তো তার মা নিহত হয়েছে। এই শিশুটি হয়ত তার মতই মাতৃ পিতৃহারা। পিতা-মাতা মারা যাওয়ার সময় হয়তো এই শিশুটিকে নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছিল। কোনোক্রমে সে পেয়ে যান। পার্বতী শিশুটিকে অনেক বুঝিয়ে শান্ত করে। তাকে বলে, তার মা কাজে গেছে ফিরতে কয়েকদিন সময় লাগবে। তার পরেও শিশুটি কাঁদলেও রাজকুমারী তাকে সামলে নেয়।
জঙ্গলের পথে রাজকুমারী রাজকুমারকে কোলে করে হাঁটতে থাকে। নিজেই ছোট তার উপর একটা ছোট্ট শিশুকে কোলে নিয়ে হাঁটতে বড্ড কষ্ট হচ্ছিল। পা পাথরে বারবার আঘাত পেয়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। ঝর ঝর করে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। তবুও শিশুটিকে ফেলে দেয় নি। এখন বাসা খুঁজতে হবে। থাকার একটা জায়গা খুঁজতে হবে। কিন্তু কোথায় পাবে সেই জায়গা?
কিছুদুর যাওয়ার পর রাজকুমারী একটা পুরনো মন্দির দেখতে পেল। তিনি ভাবলেন এই মন্দিরে নিশ্চয়ই কেউ না কেউ আছে। কেউ না থাকলেও পুজো দিতে নিশ্চয়ই কেউ আসবেন। এই শিশুটিকে যদি এখানে রেখে দেওয়া যায়। তাহলে ঠিক কেউ না কেউ একে মানুষ করাতে পারবে। না হলে এখানে তো পুরোহিত মশাই রয়েছে। তিনি শিশুটিকে ঠিক বাঁচিয়ে নিবেন।সে শিশুটিকে মন্দিরে বসিয়ে দিল। তারপর সোজা পথে রাজকুমারী বেরিয়ে যেতে লাগলো। তখনই শিশুটি আবার চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করল। কাঁদো কাঁদো গলায় শিশুটি বলল,
- জিও না আমায় ছেড়ে। আমি যে একা। আমার ভীষণ ভয় করছে। দয়া করে তোমার সাথে আমাকেও নিয়ে চলো।
রাজকুমারী পার্বতী পেছনে তাকাতে পারলেন না। বড্ড মায়া হচ্ছিল ওই শিশুটির উপর। ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করছে না। আবার থাকতেও পারছে না। ছেলেটিকে তার কাছে রাখলে কি খেতে দেবে? কিভাবে বড় করবে সেই শিশুটিকে। তিনিই বা কিভাবে বড় হবে? নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল রাজকুমারীর মাথায়?
তখনই তার মাথায় একটা ভাবনা এল, এই জঙ্গলে তো অনেক জন্তু-জানোয়ার আছে। তারা যদি একটা রাতের মধ্যেই ওই শিশুটিকে আক্রমণ করে। তাহলে শিশুটির প্রাণ কে বাঁচাবে? না এটা তিনি করতে পারেন না। যতই তিনি ছোট হোক। তিনি রাজ্যের রাজকুমারী। তিনি রাজার কন্যা। তার ধমনীতে রাজবংশের রক্ত জেগে উঠলো। তাকে একা ছেড়ে যেতে পারেনা। সেই ছোট্ট শিশুটিকে আবার কোলে তুলে নেয়। কাঁদো কাঁদো গলায় রাজকুমারী শিশুটিকে বলে,
- আমি তোকে ছেড়ে কোথাও যাবো না। যতদিন না তোর সঠিক ঠিকানা পাচ্ছি, ততদিন আমি তোকে কাছে রাখবো। আমি তোকেই বড় করব।
রাজকুমারী মন্দিরটিকে দেখে আরো বেশি অবাক হলেন। এই মন্দিরটা যে অনেক পুরনো। দীর্ঘ 50 বছর মনে হয় এই মন্দিরে কেউ প্রবেশ করেনি। এখানে পুজো পাট সব বন্ধ। এটা তিনি কী করতে যাচ্ছিলেন? তিনি যদি এই শিশুটাকে এখানে ফেলে রেখে যেতেন। তাহলে শিশুটা বাঁচতে পারতো না। কষ্ট পেতে পেতে এক সময় মারা যেত।
রাজকুমারী রাজকুমারের চোখের জল মুছে দিয়ে বলল, - তোমার নাম কি?
শিশুটি কোন উত্তর দিল না। সে তখনো তার নাম আয়ত্ত করতে পারেনি। রাজকুমারী তাকে একের পর এক,তার রাজ্যের নাম, পিতা মাতার নাম জিজ্ঞেস করলেন? কিন্তু শিশুটি কোন উত্তর দিতে পারল না। রাজকুমারী বুঝতে পারলেন, শিশুটি অনেক ছোট। এখন এত প্রশ্ন না করাই ভালো। রাজকুমারী মন্দিরের দিকে তাকালেন, নারায়ণের মন্দির। নারায়ণ ঠাকুর কে দেখে তিনি শিশুটির নাম দিলেন কেশো নারায়ন।
(যোদ্ধা নামের এই রুপকথার গল্প টি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে আমাদের কমেন্ট করুন।)-চলবে-
পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “যোদ্ধা নামের রুপকথার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
পরের পর্ব পড়ুন – যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প– পর্ব ৫ | Bangla Golper Asor BD
0 মন্তব্যসমূহ