.jpeg)
যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প– পর্ব ৫ | Bangla Golper Asor BD
যোদ্ধা রাজার রহস্যময় যুদ্ধ – এক সাহসী রূপকথার গল্প: প্রজারা বিরক্ত হয়ে ওঠে। প্রতিবাদ করে। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। রুদ্র নারায়ণ গড়ে প্রথম যুদ্ধ ঘোষণা। অবশেষে কি হলো জানতে পুরো গল্পটি পড়ুন।
পর্ব ৫
রাত্রির কালো পর্দা সরিয়ে একটি রৌদ্রদীপ্ত দিনকে উপহারস্বরুপ শ্যামা ধরিত্রীর হাতে তুলে দেয় যে, সে উষা-তপনের দ্রুতি, অরুণ রমণী। ঊষার আবির্ভাব রাত্রি বিদায় ও দিনের শুভসূচনা সন্ধিক্ষণ। তার পিছনে পিছনে চলে সূর্য দেব আবির্ভাব, আবির্ভূত হন উদয়াচলে। সূচিত হয় প্রভাত। প্রবাদে আছে শব্দ জাগরণের স্নিগ্ধ প্রশান্তি। আছে শুভ্র শুচিতা, আছে অরুণ অরুণ এর সোনা হাসিতে উজ্জ্বল কর্মচঞ্চল প্রাণের অবলীলা। সকালের হিম শীতল বায়ু আঘাত হানলো রাজকুমার কেশো নারায়ণ এবং রাজকুমারী পার্বতী গায়ে।
তারা মন্দিরের সামনে পাশাপাশি দুজন ঘুমিয়ে রয়েছে। গায়ে বসন এলোমেলো। চুল গুলো মুখের উপর পড়ে রয়েছে।চারিদিকে নিঝুম নিস্তব্ধতা।এক চরম ঘুম দিচ্ছে তারা। তারা কোনোভাবেই রাতটা কাটিয়ে ফেলেছে।পাখির গানে প্রথমে কেশো নারায়ন উঠে পরল। উঠে তিনি কান্না শুরু করে দিলেন। কেশো নারায়ণের কান্নায় রাজকুমারী পার্বতীর ঘুম ভেঙে গেল। তিনি উঠে রাজকুমারকে কোলে নিয়ে বললেন,
- কান্দিস না সোনা। এইতো আমি তোর কাছে রয়েছে।
কিন্তু কেশো নারায়ণ শুনল না। তার কান্নার জোর বেড়ে গেল। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
- আমার খিদে পেয়েছে আমাকে কিছু খেতে দাও।
খাওয়ার কথা শুনতে রাজকুমারী চোখ থেকে জল গড়িয়ে পরলো। কোথা থেকে পাবে খাওয়ার? দু’মুঠো অন্নের জন্য কালকের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতিটা রাজকুমারী চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে। এই রুদ্র নারায়ণগড়ের কারোর দয়া মায়া বলতে কিছু নেই। কেউ তাদের খেতে দেবে না। নিজের খাবার নিজেকে সংগ্রহ করতে হবে। অনেক বুঝিয়ে কেশো নারায়ণকে শান্ত করলেন।
রাজকুমারী মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। এই জঙ্গলে নিশ্চয়ই অনেক ফল গাছ রয়েছে। সেখান থেকে ফল সংগ্রহ করে তারা খাদ্য গ্রহণ করতে পারবে।সেই আশায় তিনি রাজকুমারকে কোলে নিয়ে জঙ্গলে উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন।, জঙ্গল টা ভালো করে ঘোরার জন্য। জঙ্গলের কিছুটা যাওয়ার পর একটা ছোট্ট নদী দেখতে পেল। তার তীর বরাবর রয়েছে সবুজ ঘাসে ঢাকা মনোরম সমতল তৃণভূমি। বনের আরো ভেতরের দিকে যেতেই, চোখে পড়ল তরমুজ জাতীয় ফল এবং আঙ্গুরের গাছ। আঙ্গুরগুলি সবই পাকা এবং রসালো। আরো খানিকটা যাওয়ার পর প্রচুর সংখ্যক কোকো, কমলালেবু ও নানা ধরনের লেবু জাতীয় গাছ চোখে পড়ল।রাজকুমারী অনেক ঘুরে সেই সব ফল সংরক্ষণ করলেন। তারপর মন্দিরে ফিরে এলে।
মন্দিরে ফিরে এসে রাজকুমারী নিজে ফল খেলে, এবং এর রাজকুমারকে কিছু ফল এবং ফলের রস খাওয়ালেন। ফলের রস খাওয়ার পর রাজকুমারের শরীর একটু তেজ বাড়লো। খুব সুন্দর দেখতে একটি ফুটফুটে ছেলে। চন্দনের মতন তার গায়ের রং উজ্জল। চোখে ভীষণ মায়া। যেন কোন রাজ্যের ছোট্ট রাজকুমার। তিনি এদিক ওদিক ছুটে বেড়াতে লাগলেন। রাজকুমারী ঝামেলায় পরল। জঙ্গলের মধ্যে কত জন্তু-জানোয়ার রয়েছে তার ঠিক নেই। তার ওপর রাজকুমারের বাচ্চা সুলভ মনোভাব।
রাজকুমার তো বাচ্চা, বাচ্চা সুলভ মনোভাব দেখাবে না তা কি হয়? রাজকুমার বারবার রাজকুমারীকে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। কিন্তু রাজকুমারী বারবার তা প্রত্যাখান করছে। তার কিছুই ভালো লাগছে না।হয়তো রাজকুমার এখন কিছু বুঝতে পারছেনা, কিন্তু রাজকুমারী একটু বড় হয়েছে,সে জানে তার সামনে বাস্তবটা কত বড় কঠিন হতে চলেছে। 1 বছর ২ দু’বছর নয়। তাদের বড় হতে 15 বছর লেগে যাবে।এই 15 বছরে তাদের বেঁচে থাকার লড়াই টা এত সহজ হবে না।
জঙ্গলে শুধু বন্য জন্তু-জানোয়ার নেই, আছে জলদস্যুদের ডেরা। যেকোনো মুহূর্তে তাদের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। অল্প বয়সেও রাজকুমারী অস্ত্র শিক্ষায় পারদর্শী হয়ে উঠেছিল, কিন্তু অস্ত্র না থাকলে তিনি কী নিয়ে যুদ্ধ করবেন? তবুও তিনি প্রতিজ্ঞা করলেন কেশো নারায়ণের কোন ক্ষতি হতে দেবেন না। ওকে মানুষ করে তুলবে মানুষের মতন।
অনুকূল পরিবেশ,যথাযথ শিক্ষা ও পরিচর্যা পেলে নিজের চেহারা ঘুমিয়ে থাকা শক্তি সম্ভাবনা অঙ্কুরিত হয়ে পত্র-পল্লবে শাখা-প্রশাখা নিজেকে মেলে ধরে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে একটা গাছ।তেমনি প্রতিটি শিশু পূর্ণাঙ্গ হয়ে ওঠার জন্য সব রকমের সুযোগ-সুবিধা একান্ত দরকার। দুঃখের বিষয়, কেশো নারায়ণ এবং পার্বতীর জন্য তা ছিল না।
রাজকুমারী রাজকুমারকে একটি নিরাপদ জায়গায় বসিয়ে, মন্দিরের দরজাটি ভেঙে ফেললেন। তিনি মন্দিরে প্রবেশ করলেন।
অনেক পুরনো মন্দির ধুলোই বালিতে ভর্তি। তবে মন্দিরের পুজো অর্চনার জন্য বেশ কিছু জিনিস সেখানে পড়ে রয়েছে। যদিও সেগুলো অনেক পুরনো, তবে অক্ষত। তিনি ভাল করে মন্দির পরিষ্কার করতে লাগলেন। রাজকুমার একা একাই খেলে চলেছে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও রাজকুমারী তাকে দেখে হাসছে। আবার কখনো তার সঙ্গে খেলায় তাল মিলাচ্ছে। রাজকুমারীর বড্ড ইচ্ছে করে খেলতে, কিন্তু পারে না। তার উপর যে এখন অনেক দায়িত্ব। রাজকুমারকে বড় করে তুলতে হবে। মন্দিরটা ভালোভাবে পরিষ্কার করার পর কিছু মোটা দড়ি, কিছু তরোয়াল এবং কয়েকটা পুরনো কাপড় পাওয়া গেল।
এইগুলো নিয়েই এখন তাদের বেঁচে থাকতে হবে। দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। নিরাপদ জায়গায় থাকার জন্য তিনি কয়েকটি গাছের ডাল কেটে আনলেন। সংগৃহীত কাছ থেকে খুঁটি তৈরি করলেন। খুঁটিগুলো মন্দিরের সামনে একটা একটা করে পুঁতে দিলেন। তারপর মোটা দড়ি দিয়ে চারপাশ বেড়া দেওয়ার মতন করে খুঁটি গুলোকে বাঁধলেন। যাতে বাইরের বন্য জন্তু-জানোয়ার সহজে আক্রমন করতে না পারে। এবার তারা বাইরের জগত থেকে পুরোপুরি সুরক্ষিত।
বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য, বাসস্থান, বস্ত্র প্রয়োজন। এই তিনটি মূল উপকরণ বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। তাদের কাছে, বস্ত্র, বাসস্থান খাদ্য থাকলেও, খাদ্যের সমস্যা টা কখনো মেটানো সম্ভব নয়। সারাদিন তারা নিশ্চয়ই ফল খেয়ে কাটাতে পারবে না। তাদের ভাতের ব্যবস্থা করতে হবে। এবং তাদের কিছু বস্ত্র খোঁজ করতে হবে। একই বস্ত্র পরিহার করে সারা বছর কাটানো সম্ভব নয়। এর একটা উপায় বার করতে হবে!
দু’মুঠো ভাতের জন্য রাজকুমারীর একটা বুদ্ধি এলো মাথায়। তিনি রাজকুমারকে নিয়ে আবার জঙ্গলের ভেতরে প্রবেশ করলেন। সাথে নিলেন একটা তরোয়াল। যেকোনো মুহূর্তেই বন্য জন্তু-জানোয়ার আক্রমণ করতে পারে। তার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। জঙ্গলে প্রবেশ করে রাজকুমারী শুকনো ডালপালা সংগ্রহ করতে লাগলো। তা দেখে রাজকুমারী আশ্চর্য হল। শুকনো ডালপালা দিয়ে রাজকুমারী কি করতে চাইছে? রাজকুমার রাজকুমারী কে বলল,
- আপনি এই শুকনো ডালপালা নিয়ে কী করবেন?
রাজকুমারী রাজকুমার এর কাছে আসলেন। তার দুটো গালে হাত দিয়ে রাজকুমারী নরম গলায় বলল, - এই শুকনো কাঠ গুলো আমরা কুমোরকে বিক্রি করব। কুমোররের হাঁড়ি কলসি পোড়ানোর জন্য কাঠের দরকার হয়। আমরা এই কাঠ বেচে দু’মুঠো অন্ন সংগ্রহ করবো।
রাজকুমার বেজায় খুশি হলো। তিনি আনন্দের রাজকুমারীকে বলল, - ভাতের সাথে নিশ্চয়ই ডাল,মাছ, মাংস দেবে।
রাজকুমারী হেসে বললেন, - না সোনা, এত কিছু দেবেনা। আমাদের শুধু ভাত আর ডাল দেবে।
রাজকুমারের মনটা ভেঙ্গে গেল। তবুও তিনি বললেন, - কেন দাস-দাসীরা তো আছে। তারা আমাদের জন্য খাবার নিয়ে আসবে। তারাই আমাদের খাবার তৈরি করে দেবে। তোমাকে আর কাজ করতে হবে না। চলো আমরা ফিরে যাই।
রাজকুমারী ভারী অবাক হলো ‘দাস-দাসী’ কথাটা শুনে। তিনি ভাবলেন এই শিশুটি কোন সাধারণ মানুষ নয়। তিনিও কোন রাজ্যের রাজকুমার। না হলে তিনি কি করে জানবেন দাস-দাসীর কথা। রাজকুমারকে লুকিয়ে রাখতে হবে। তার বাবা-মা যদি বেঁচে থাকে। মা-বাবা যদি কোনদিন জানতে পারে রাজকুমার এখানে থেকে বড় হচ্ছে। তাহলে তাকে নিয়ে চলে যাবে। রাজকুমারী একা হয়ে যাবে। সেই মায়াবী শিশুকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না। এই দুটো দিনে শিশুটি পার্বতীর কত আপন হয়ে উঠেছে। তাকে নিয়েই সে বাঁচতে চায়।অনেক বড় যোদ্ধা বানাবে সে,কেশো নারায়ণকে। নিজেই শিশুটাকে অস্ত্রশিক্ষা দান করবে। তাকে দিয়েই তার হেরে যাওয়া বাবার প্রতিশোধ নিবে। রূপনগরে আবার আগের মতন হয়ে উঠবে। রুপ নগরের রাজা হবেই কেশো নারায়ণ আর রাজকুমারী পার্বতী। মনে মনে শপথ গ্রহণ করলেন রাজকুমারী পার্বতী। তবুও রাজকুমারী পার্বতী নরম গলায় বলল, - না রাজকুমার। এখানে কোন দাস-দাসী নেই। এখন থেকে আমাদের একাই চলতে হবে।
রাজকুমার মাথা নেড়ে বলল, - বুঝেছি, মার সাথে সমস্ত দাস-দাসীরা নিশ্চয়ই চলে গেছে। তাই এখন আমাদের সব কাজ করতে হবে। মা ফিরে এলে আমরা আর কোনো কাজ করব না।
রাজকুমারী হেসে বললেন, - হ্যাঁ রাজকুমার। ততদিন তুমি আমার সাথে থাকবে। আমার সব কথা শুনে চলবে প্রতিজ্ঞা করো।
- আমি প্রতিজ্ঞা করছি, যতদিন না আমার মা-বাবা ফিরে আসবে, ততদিন আমি আপনার সমস্ত কথা শুনে চলবো।
জঙ্গলে অনেকক্ষণ কাঠ সংরক্ষণ পর রাজকুমারী সেগুলো কুমোর কে বিক্রি করে দুমুঠো অন্ন সংগ্রহ করল। কিন্তু কুমোর শুধু ভাত দিল। ডাল দিল না। রাজকুমার কে পাশে বসিয়ে রাজকুমারী খাওয়াতে লাগলেন। কিন্তু রাজকুমার কিছুতেই খেতে চাইছেন না। - আমি এই ভাত খাব না। আমাকে ডাল এনে দাও। আমাকে মাছ এনে দাও। আমি খালি ভাত খেতে পারব না।
রাজকুমারী বড্ড ঝামেলায় পড়লেন। এই শিশুকে তিনি কি করে বোঝাবে, এর থেকে আর ভালো খাবার সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। এইভাবে তাদের জীবনযাপন করতে হবে। তিনি রাজকুমারে মাথায় হাত বুলিয়ে শান্ত গলায় বললেন, - দয়া করে খেয়ে নাও। আমি রাতে তোমার জন্য ডাল আর ভাতের ব্যবস্থা করে দেব। কথা দিচ্ছি। এবার খেয়ে নাও।
দুজনের চোখ থেকে খাবারের থালায় টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছিল। তাদের মা শিখিয়েছিল খেতে বসে, খাবারের থালায় চোখের জল ফেলতে নেই। কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস। সময়ের সাথে সাথে সব বদলে দিয়েছি। বেঁচে থাকাটাই এখন যন্ত্রণাদায়,কষ্ট হয়ে উঠেছে। তবুও ঘুরে দাঁড়ানোর টাই জীবন। সেটাই করছে রাজকুমারী পার্বতী। তিনি রাজকুমারের চোখের জল মুছে দিলেন। রাজকুমারও রাজকুমারীর চোখের জল মুছে দিল। রাজকুমার বলল, - ঠিক আছে, রাতে কিন্তু আমি ডাল আর ভাত চাই। না হলে আমি খাব না। আমি এখান থেকে চলে যাব।
রাজকুমারী রাজকুমারের দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে রইলেন। এই শিশুটা জানে না এখান থেকে চলে গেলে তার বাঁচার উপায় নেই। তার মৃত্যু অনিবার্য। ছেলে মানুষ জানে না বলে ফেলেছে। তাকে কাছে নিয়ে বলল, - আচ্ছা ঠিক আছে, এখন চুপটি করে খেয়ে নাও তো।
সারাদিন অক্লান্ত পরিশ্রমের পর,পড়ন্ত দুপুরে রাজকুমারী ঘুমিয়ে পড়েছিল ভাঙা মন্দিরের ভেতরে। তার কোলের উপর মাথা দিয়ে রাজকুমারও ঘুমিয়ে পড়েছে। সূর্য তখন মাথার উপর। চারিদিক গনগন করে রোদের প্রকোপ। এই গভীর জঙ্গলে বাতাস যেমন একা-নিঃসঙ্গ, তেমনি রাজকুমার এবং রাজকুমারী ছিল একা এবং নিঃসঙ্গ। পার্বতী বেশ খানিকক্ষণ ঘুমিয়ে গেছিল। কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে পড়ার পর, রাজকুমারী যখন ঘুম থেকে উঠে পড়লেন। তিনি লক্ষ্য করলেন, রাজকুমার তার পাশে নেই। তার মুখ মুহূর্তের মধ্যে হতাশায় ভরে উঠলো। এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে রাজকুমারকে খুঁজতে লাগলেন। তিনি বারবার উচ্চকণ্ঠে রাজকুমার কে ডাকছে, - রাজকুমার কোথায় তুমি? দয়া করে সারা দাও! আমি ভীষণ ভয় পাচ্ছি! দয়া করে এমন করো না রাজকুমার।
রাজকুমার এর কোন শব্দ নেই। সে জঙ্গলের কিছু দূরে একটা ঘোড়ার শাবক পেয়েছে। ছোট্ট একটা শাবক ঠিকঠাক হাঁটতে পারছে না তার কাছেই বসে রয়েছে। এদিকে রাজকুমারী চিৎকার করে করে,রাজকুমারকে ডেকে চলেছে। হঠাৎ রাজকুমারের কানে রাজকুমারী গলার স্বর ভেসে এলো। তখন রাজকুমার ও চিৎকার করে বলল, - আমি উত্তরের দিকে রয়েছে রাজকুমারী। আমাকে নিয়ে যাও। আমি রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিনা। জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে গেছে।
রাজকুমারীর চোখ থেকে তখন জল গড়িয়ে পড়ছে। কি করে রাজকুমার জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করল, সে ভেবেই পাচ্ছে না। রাজকুমারী ও চিৎকার করে বলল,
- তুমি সেখানেই থাকো। আমি আসছি। আর তুমি জোরে জোরে চিৎকার করো,যাতে আমি শুনতে পেয়ে তোমার দিকে এগিয়ে যেতে পারি।
রাজকুমারী কথামতো রাজকুমার জোরে জোরে ডাকতে লাগলেন,”রাজকুমারী”বলে। সুরের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হতে লাগলেন রাজকুমারী।
এবং কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি রাজকুমারকে খুঁজে পেয়ে গেলে। রাজকুমার কে পেয়ে তিনি কেঁদে অস্থির। তাকে কোলে তুলে নিয়ে চিৎকার করে করে রাজকুমারী কাঁদতে লাগল। রাজকুমারীর কান্না দেখে রাজকুমার ও কেঁদে উঠলো। পার্বতী একটু অবাক হয়ে বললো,
- তুমি কাঁদছো কেন?
- আপনি কাঁদছেন তাই আমারও চোখ থেকে জল পড়ে যাচ্ছে।
রাজকুমারী মাথা নাড়িয়ে বলল, - তুমি আর কাঁদবে না। তোমার চোখে আমি কখনো জল দেখতে চাই না। আর কখনো আমাকে না বলে একা বেরোবে না।
রাজকুমার মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ সম্মতি জানাল। তারপর সে দূরে হাত বাড়িয়ে দেখালো একটা ঘোড়ার শাবক পড়ে রয়েছে।সাদা ধবধবে একটি ঘোড়ার শাবক ঘাসের উপর পড়ে রয়েছে। রোগা দুর্বল তার চেহারা। মনে হয়,সেও তার মা-বাবাকে হারিয়ে একা ক্লান্ত। রাজকুমারী ঘোড়ার শাবক এর কাছে গিয়ে বলল, - একে আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাবি?
রাজকুমারের আনন্দে আর ধরে রাখতে পারছেনা। তিনি আনন্দে বিচলিত হয়ে উঠলেন। আর রাজকুমারীকে হ্যাঁ সম্মতি জানাল।তারপর তারা দুজন সেই ঘোড়ার শাবকটিকে নিয়ে মন্দিরে ফিরে এলেন……
ভীষন কৌতুহল হল রাজকুমারী। রাজকুমারের প্রতি তার আরও তীব্র মমতা তৈরি হলো
সে সারাক্ষণ রাজকুমারের সাথে থাকে। তারর সাথে গল্প করে। তার জন্য বন থেকে ফুল কুঁড়িয়ে আনে। শেষে ফুল দিয়ে রাজকুমারী মালা গাঁথে। এমনি করে দিন যায়। রাজকুমারকে পিয়ে রাজকুমারী যেন সব দুঃখ ভুলে গেল। রাজকুমারও যেন ভীষণ খুশি। কেশো নারায়ন এবার রাজকুমারীকে পার্বতী বলে ডাকতে শুরু করলো। কষ্টের মধ্যেও তারা ছোট্ট ছোট্ট আনন্দ খুঁজে নিয়ে দিন কাটাতে লাগলো।
আর এভাবে চলতে লাগলো তাদের সুখের সংসার।
লেখাঃ শুভজিৎ জানা (রাজা)
(যোদ্ধা নামের এই রুপকথার গল্প টি সম্পর্কে আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে আমাদের কমেন্ট করুন।)
-সমাপ্ত-
পাঠক আপনাদের জন্যই আমরা প্রতিনিয়ত লিখে থাকি। আপনাদের আনন্দ দেয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ। তাই এই পর্বের “যোদ্ধা নামের রুপকথার গল্প” টি আপনাদের কেমন লাগলো পড়া শেষে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।
আরও পড়ুন – ভিনগ্রহের প্রেম | এলিয়েন ভালোবাসার গল্প - Bangla Golper Asor BD
0 মন্তব্যসমূহ